মঙ্গলবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৩

মাছেদের শহর


ফুটপাথের ওপর ছিটকে পড়া একফোঁটা রামের গন্ধে
ছুটে আসিস নেড়ি কুকুরের মতো

দু'ঠোঁটের কোনা বেয়ে ঝড়ে রক্ত
তবুও মেটেনা তোর কাষ্ঠ পিপাসা

পান করিস রোজ নর্দমার জল
কিন্তু তুই-ই হলি শ্রেষ্ঠ বীর 

নাস্তানাবুদ হয় মাছেদের শহর, অতঃপর
তোকে ছুঁয়ে দেখার অভিপ্রায়ে পুরো জগৎটাই অধীর।


বৃহস্পতিবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১৩

তুই, আমি অথবা আমরা

ভেঙ্গে ভেঙ্গে সবকিছু গড়তে গিয়ে
শেষ পর্যন্ত সবকিছু ভেঙ্গেই গেছে
নেই কোন খড়কুটো বা অবলম্বন
উপড়ে যাওয়া শেকড় সমেত
মন বৃক্ষকে যেখানে ঠেক দেয়া যায়।

আছে শুধু মৃত্যুর নিস্তব্ধতা
আর্তের চীৎকার, না পাওয়ার হাহাকার
কানাগলিতে পড়ে থাকা বিকৃত লাশ
শকুনের দল, হায়নার উল্লাস।

শুন্যতা শুধু ছড়িয়ে ছিটিয়ে
নিস্তব্ধতার অবিরাম হুঙ্কার
রসাতলে তুই, আমি অথবা আমরা
অস্ত গেছে যত আলো - আঁধারে
বেদুঈন এসে খুঁটি গাড়ে,
গঙ্গা অথবা যমুনার চড়ে।

বুধবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৩

প্রতিবাদ

বুলেটের তীক্ষ্ণ আঘাতে ঝড়ে যায় সব রক্ত
বুক চিঁরে বেরিয়ে আসে করুন আর্তনাদ

শুনে যাই শত হাহাকার চারপাশে
আবদ্ধ বাতাসে নেই তার কোন প্রতিবাদ।

মঙ্গলবার, ১২ নভেম্বর, ২০১৩

তোরা...

অনেক তো হল এবার
একটু তোরা থাম,
কাজকর্মে হয় তো মনে
ভুতের রাম নাম।

ফাটালি বোমা ধরালি আগুন
জীবন গেল বাজি,
এভাবে কি কখনো তোরা
মরতে আছিস রাজি?

আর কতদিন চলবে এভাবে
ভাঙ্গছে শুধু মন,
ভুলে কি গেছিস তোরা 
দেশ-যে বড় ধন?

সোমবার, ২৮ অক্টোবর, ২০১৩

শের ~ ৬

ধুম, ধাম, ঠাশ, ঠুস
হচ্ছে বহু জীবন ফুঁস,
ভুত হয়ে যখন আসবে সবাই
তখন সবার ফিরবে হুঁশ।

বৃহস্পতিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০১৩

শের ~ ৫

ভেঙ্গে গেছে তাঁদের মাজা
তাঁরা তো সব খোজা
দিনের আলোয় থাকে তাঁদের
চোখ গুলো সব বোজা।

মঙ্গলবার, ২২ অক্টোবর, ২০১৩

শের ~ ৪

মনুষ্য আমি মৃত্তিকায় গড়া
জল যদি না পাই তবে
অক্ষর বিন্যাসে মিটাই খরা।

সোমবার, ৭ অক্টোবর, ২০১৩

টুকি কাব্য ~ ১


মুখের ভাষায় যদি বলি
তবে কি তুমি শুনবে?
চোখের ভাষায় যদি বলি
তবে কি তুমি বুঝবে?
যদি অক্ষরে লিখে দেই তোমায়
তবে কি তুমি পড়বে?
সব বুঝে নিয়ে অবশেষে
তুমি কি আমাকে ভালোবাসবে?

 টুকি কাব্য-২



মেঘ আছে ঐ আকাশ জুড়ে
মেঘ তো আছে এ হৃদয়ে
আকাশের মেঘ যদি হয়ে যায় জল
তবে হৃদয়ের মেঘ কেন বদ্ধ এ ঘরে...???


শের ~ ২

অনেক কিছুই যায় যে ক্ষয়ে
অনেক কিছুই পেয়ে
অনেক কিছুই যায় না পাওয়া
অনেক পথ যেয়ে।


শের ~ ১

খুঁটিনাটি সব কিছু
ছুঁয়ে দেয় জল 
এমন দস্যি পবনে
কি-বা করি বল...

টুকি কাব্য ~ ৩

বয়ে যাওয়া বাতাসে
যদি ওড়ে আঁচল
ভালোবাসা তবে কি
হয়ে যাবে জল?
মরুতে কখনো যদি
ফোটে কোন কমল
(তবে) হারাবে সে কি
সুখ তার সকল?


ধুলো...

ধুলোর মাঝে করছি বাস
ধুলোই আমার ঘর,
হৃদয় মাঝে জেগে ওঠে
ধুলোরই সে চর,

ধুলোর মাঝে ঘুরি - ফিরি
ধুলোই আমার গাড়ি
ধুলো দিয়ে গড়েছি তাই
আমার ছোট্ট বাড়ি,

ধুলোর রোদে ধুলোর আলোয়
ধুলোর স্বপ্ন দেখি
ধুলোর খাঁচায় বন্দি করে
ধুলোর দু'টো পাখি,

ধুলোয় জীবন করবো পার
ধুলোর ঝড়ে ভেসে
মুঠোর ধুলো বিলোব তাই
ধুলোর হাসি হেসে।

মা

তোমার কথা হয়না শোনা
শুনতেও তো আমি চাইনা
অনেক কিছুই যখন-তখন
চেয়েও আমি পাই না,

ডাকো যখন আমায় তুমি
শুনেও আমি শুনি না
এমন ভাব করি যেন
কি বলছো কিছুই বুঝিনা,

কাছে থেকেও থাকি দূরে
পাশে তোমার আসি না
থাকবে তুমি যখন বহুদূরে
কি করবো আমি জানিনা,

ভাবছো তুমি তোমায় আমি
মোটেও অনুভব করি না
সত্যি বলতে,
তোমায় ছাড়া একমুহূর্ত মা
থাকতে যে আমি পারিনা।


প্রভাত ভাবনা

সকাল সকাল আজ গিয়েছিলাম বাজারে
শাক-সবজি-মাছ ছিল হাজারে হাজারে
মোটেও কম ছিল না মানুষের ভীর
কেউ কেউ তাঁরা ছিল বড়সড় বীর!

বাজারের সেরাটাই তাঁদেরই তো চাই
বোঝা টানা ছেলেটার পেটে ভাত নাই
ডিমের হালি হয়ে গেছে ছত্রিশ টাকা
কম কত বললেই দোকানীর মুখ বাঁকা,

একমুঠো শাক কিনে ফিরে এলাম বাড়ী
প্রায় শুন্য হাত দেখে গিন্নির মুখ ভারি
এভাবেই চলে রোজ চারপেয়ে সংসার
ছাইপাশ খেয়ে থাকি,
কি বা আছে আর বলার?